আজ ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবিঃ সংগৃহিত

হামের উপসর্গ কোনগুলো, কখন মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়, চিকিৎসা কী!

হামের প্রথম কয়েকদিন সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। কারণ হামে ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায় এজন্য উপসর্গগুলো শুরু হয়  নাক দিয়ে পানি পড়া, সঙ্গে জ্বর (১০৩-১০৫°), কাশি, গলা ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

প্রায় ২-৪ দিন পর শরীরে লালচে ছোপ ছোপ ফুসকুড়ি প্রথমে মুখে দেখা যায়। তারপর গলায়, ঘাড়ে সারা শরীরে পড়ে। যা ৫-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

হাম বা রুবিওলা ( Rubeola) একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও তীব্র ভাইরাসঘটিত সংক্রামক রোগ। প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাসগণের অন্তর্গত ভাইরাসের কারণে রোগটি ঘটে।

হাম শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন— ফুসফুস বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, অন্ধত্ব এবং খিঁচুনি। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার কারণে অন্যান্য ইনফেকশন দ্বারা খুব সহজে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি হয়ে যায়।

হামের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিকার নেই। হাম থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো হামের টিকা, যা নির্ধারিত ২টি ডোজ নেওয়ার পর হাম প্রতিরোধে ৯৭% কার্যকর। যদি কেউ হাম এ আক্রান্ত হয় তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই আইসোলেশনে রাখতে হবে; যাতে তার কাছ থেকে অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে না পারে এবং শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমাতে হলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, সময়মতো টিকা দেওয়া এবং হাম হলে সময়মত চিকিৎসা শুরু করার উপর মনোযোগ দিতে হবে।

হাম হলে প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২-৩ দিন পরে মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক দাগ) দেখা যায়।৩-৫ দিন পরে  ফুসকুড়ি ( ম্যাকুলোপ্যাপুলার) দেখা যায়।এটি মুখ থেকে শুরু হয় এবং নিচের দিকে চলে যায়।

হাম এ আক্রান্ত  ব্যক্তিরা যখন শ্বাস নেয়, কাশি দেয় বা হাঁচি দেয় তখন রুবেওলা ভাইরাস বাতাসের ফোঁটার মাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়। এই সংক্রামক কণাগুলো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত পৃষ্ঠের উপর সক্রিয় থাকে।বেশিরভাগ রোগী ৭-১০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় জটিলতা ধারণ করে বিশেষ করে  শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশন হয়ে মস্তিষ্কের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে।

চিকিৎসা

হাম এর নির্দিষ্ট কোন এন্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা হয়ে থাকে।আক্রান্ত হলে শরীরের সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। জ্বর হলে ওষুধ দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা এবং দুদিনের জন্য ভিটামিন এ সম্পূরক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাম হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।সতর্ক ও সচেতন  হতে  হবে। রোগীকে আইসলেশনে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ভ্যাকসিন সময় মতো দিয়ে দিতে হবে  এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

লেখক: আয়েশা আক্তার

উপ-পরিচািত

২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল।

 

সংবাদ-সংগৃহিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category