আজ ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন কারাবন্দি বাংলাদেশি নারী।

ভারতের মুম্বাইয়ের এক সরকারি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন পুলিশি হেফাজতে থাকা এক বাংলাদেশি নারী। তিনি গর্ভবতী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে ২১ বছর বয়সি ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাইয়ের ভাসি পুলিশ। পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে মুম্বাইয়ের স্যার জে জে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ওই হাসপাতালে ১০ নম্বর কেবিনে ছিলেন ওই নারী। ১৪ আগস্ট হঠাৎ করেই নিরাপত্তা রক্ষীদের নজর এড়িয়ে সেখান থেকে উধাও হয়ে যান তিনি।

পুলিশের মতে, রুবিনা ইরশাদ শেখ নামের ওই নারী নভি-মুম্বাইয়ের সেক্টর-৫ এ থাকতেন। ১৩ জানুয়ারি  রুবিনা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কই সাথে তার মা আয়েশা ইরশাদ শেখ, বড় ভাই হুসেন শেখ, বোন রেশমা ইরশাদ শেখ এবং  ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রুবিনার মা আয়েশা ইরশাদ শেখ বাংলাদেশের যশোর জেলার ভাটপাড়া থানার অন্তর্গত মহেশ খুলা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা স্বীকার করেছিলেন, ২৫-৩০ বছর আগে তিনি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রকাশ করেছিলেন।

গ্রেপ্তারের সময় রুবিনাসহ বাকিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ভারতীয় পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয় পত্র। পুলিশের ধারণা ভুয়া ভারতীয় নথি জোগাড় করে ওই পাসপোর্ট তৈরি করেছেন এরা।

ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে রুবিনার বিরুদ্ধে ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্ট, পাসপোর্ট আইন এবং ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস) -এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে রুবিনাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় হেফাজত হয় রুবিনার। পরে তাকে বাইকুল্লা জেলা নারী কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালে অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করে সে। জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয় রুবিনা, দেখা দেয় ত্বকের সমস্যাও। ১১ আগস্ট পুলিশ তাকে জে জে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জানা যায় রুবিনা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনদিন পর গত বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতাল থেকেই পালিয়ে যান রুবিনা।

পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারের বন্দি হাওয়ায় হাসপাতালে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পুলিশের সদস্যরাও। ওই দিন আলট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য এক নারী কনস্টেবল তাকে পাহারা দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে ওই নারী কনস্টেবলের নজর এড়িয়ে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে গা ঢাকা দেন রুবিনা। পুলিশের হাত থেকে বিচারাধীন বন্দির পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে স্যার জে জে মার্গ পুলিশ থানায় একটি অতিরিক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রুবিনাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সংগৃহীত সংবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category